
জকিগঞ্জ উপজেলা তালামীযে ইসলামিয়ার সম্মেলনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা থামছেই না। সম্মেলনের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলীর বক্তব্যের পর বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সম্মেলনের আগের রাতে জকিগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ সুজন মিয়া মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলীর ব্যক্তিগত নম্বরে ফোন করেন। ফোনটি তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী রিসিভ করেন বলে জানা গেছে। উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি দাবি করেছেন, ওই আলাপচারিতায় সম্মেলনে উপস্থিত না হওয়ার বিষয়ে বার্তা দেওয়া হয়েছিল।
ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো—প্রশাসনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে সরাসরি প্রধান অতিথির সঙ্গে, আয়োজক কমিটির সঙ্গে নয়। স্থানীয়দের প্রশ্ন, কোনো অনুষ্ঠান নিয়ে প্রশাসনের উদ্বেগ থাকলে আয়োজকদের সঙ্গে আলোচনা না করে কেন প্রধান অতিথির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলো?
এদিকে তালামীয ও আল ইসলাহ সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সম্মেলনে বাধা দেওয়ার চেষ্টার পেছনে একটি ইসলামী রাজনৈতিক দলের কয়েকজন যুবনেতার সম্পৃক্ততাও থাকতে পারে। তাদের দাবি, সম্মেলনের আগের রাতে ওই নেতাদের থানায় এবং পরে ডাকবাংলো এলাকায় দেখা গেছে।
অন্যদিকে জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান কিছু লেখালেখির বিষয় বিবেচনায় রেখে মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরীকে সম্মেলনে না আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে সম্মেলন আয়োজনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বাধা সৃষ্টি করা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি জানান, অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাঠে উপস্থিত ছিলেন।
তবে তালামীয ও আল ইসলাহ নেতাকর্মীদের দাবি, কোনো অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথিকে উপস্থিত না হওয়ার অনুরোধ জানানোই প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের শামিল। ফলে জকিগঞ্জের এই সম্মেলন ঘিরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—যদি প্রশাসনের কোনো উদ্বেগ থেকেই থাকে, তাহলে আয়োজকদের সঙ্গে আলোচনা না করে কেন সরাসরি প্রধান অতিথির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল?
জনতা টিভি | সত্যের সন্ধানে নির্ভীক
প্রতিবেদকের নাম 










