Dhaka ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
জকিগঞ্জ ক্রিকেট প্রিমিয়ার লীগের প্লেয়ার ড্রাফট ১২ সেপ্টেম্বর জকিগঞ্জে সেমিফাইনাল জিতেও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার মুখে বিরশ্রী ফুটবল একাদশ দেশে সারের সংকট, কৃষকের হাহাকার,মিয়ানমারে পাচারের সময় সারভর্তি লরি আটক সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্য-সচিব হলেন বিএনপি নেতা পাপলু জকিগঞ্জে কাজলসার ইউপি চেয়ারম্যান ও সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি আশরাফুল আম্বিয়া গ্রেফতার জকিগঞ্জ বাজারের ট্রাফিক ডালিমকে মানবিক উপহার দিলেন ওসি আব্দুর রাজ্জাক আশুগঞ্জে ১২০০ পিস ইয়াবাসহ জকিগঞ্জের মাদক কারবারি গ্রেফতার সোনাসার বাজারের পূর্ব পাশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবক গুরুতর আহত জকিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন: ২নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী সজীব আহমদ বিয়ানীবাজারের চারখাইয়ে ২১ লাখ টাকার ইয়াবাসহ জকিগঞ্জের শহিদুল গ্রেপ্তার

জকিগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু; হত্যা নাকি আত্মহত্যা—ধোঁয়াশা

32

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বিরশ্রী ইউনিয়নের আখাকল্যাণ গ্রামে মাহিনা বেগম (২০) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে জকিগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত মাহিনা বেগম বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই ইউনিয়নের বাদশাহ মিয়ার মেয়ে। প্রায় এক বছর আগে তাঁর বিয়ে হয় জকিগঞ্জ উপজেলার আখাকল্যাণ গ্রামের নোমান উদ্দিনের সঙ্গে। তাঁদের সংসারে তিন মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর মাহিনার সংসার মোটামুটি ভালোভাবেই চলছিল। সোমবার গভীর রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে গলায় ফাঁসের চিহ্ন দেখতে পান তারা। স্বজনদের দাবি, মাহিনাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

নিহতের বোন অভিযোগ করেন, প্রথমে শ্বশুরবাড়ির লোকজন জানান মাহিনা ঘুমের মধ্যে মারা গেছেন। পরে গলায় ফাঁসের চিহ্ন দেখে তাদের সন্দেহ হয়। তিনি আরও দাবি করেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগে শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে যান এবং পরে আত্মহত্যার দাবি করেন।

অন্যদিকে, নিহতের স্বামী নোমান উদ্দিনের চাচা আফতাব উদ্দিন নুমানী জানান, তিনি পাশের ঘরে অবস্থান করছিলেন। মাহিনার মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তিনিই জকিগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি পালঙ্কের নিচে মাহিনার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

এ বিষয়ে জকিগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ সুজন মিয়া জানান, মরদেহের গলায় হালকা ফাঁসের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও অন্যান্য আলামতের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির সব দিক গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

জকিগঞ্জ ক্রিকেট প্রিমিয়ার লীগের প্লেয়ার ড্রাফট ১২ সেপ্টেম্বর

জকিগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু; হত্যা নাকি আত্মহত্যা—ধোঁয়াশা

আপডেটের সময়: ১১:৩৫:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
32

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বিরশ্রী ইউনিয়নের আখাকল্যাণ গ্রামে মাহিনা বেগম (২০) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে জকিগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত মাহিনা বেগম বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই ইউনিয়নের বাদশাহ মিয়ার মেয়ে। প্রায় এক বছর আগে তাঁর বিয়ে হয় জকিগঞ্জ উপজেলার আখাকল্যাণ গ্রামের নোমান উদ্দিনের সঙ্গে। তাঁদের সংসারে তিন মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর মাহিনার সংসার মোটামুটি ভালোভাবেই চলছিল। সোমবার গভীর রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে গলায় ফাঁসের চিহ্ন দেখতে পান তারা। স্বজনদের দাবি, মাহিনাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

নিহতের বোন অভিযোগ করেন, প্রথমে শ্বশুরবাড়ির লোকজন জানান মাহিনা ঘুমের মধ্যে মারা গেছেন। পরে গলায় ফাঁসের চিহ্ন দেখে তাদের সন্দেহ হয়। তিনি আরও দাবি করেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগে শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে যান এবং পরে আত্মহত্যার দাবি করেন।

অন্যদিকে, নিহতের স্বামী নোমান উদ্দিনের চাচা আফতাব উদ্দিন নুমানী জানান, তিনি পাশের ঘরে অবস্থান করছিলেন। মাহিনার মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তিনিই জকিগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি পালঙ্কের নিচে মাহিনার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

এ বিষয়ে জকিগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ সুজন মিয়া জানান, মরদেহের গলায় হালকা ফাঁসের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও অন্যান্য আলামতের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির সব দিক গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।