Dhaka ০৪:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
জকিগঞ্জ ক্রিকেট প্রিমিয়ার লীগের প্লেয়ার ড্রাফট ১২ সেপ্টেম্বর জকিগঞ্জে সেমিফাইনাল জিতেও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার মুখে বিরশ্রী ফুটবল একাদশ দেশে সারের সংকট, কৃষকের হাহাকার,মিয়ানমারে পাচারের সময় সারভর্তি লরি আটক সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্য-সচিব হলেন বিএনপি নেতা পাপলু জকিগঞ্জে কাজলসার ইউপি চেয়ারম্যান ও সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি আশরাফুল আম্বিয়া গ্রেফতার জকিগঞ্জ বাজারের ট্রাফিক ডালিমকে মানবিক উপহার দিলেন ওসি আব্দুর রাজ্জাক আশুগঞ্জে ১২০০ পিস ইয়াবাসহ জকিগঞ্জের মাদক কারবারি গ্রেফতার সোনাসার বাজারের পূর্ব পাশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবক গুরুতর আহত জকিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন: ২নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী সজীব আহমদ বিয়ানীবাজারের চারখাইয়ে ২১ লাখ টাকার ইয়াবাসহ জকিগঞ্জের শহিদুল গ্রেপ্তার

সিলেট হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারে দখলদারিত্বে , সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের বড় পদক্ষেপ

20

সুলতানে সিলেট হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) এর দরগাহকে কেন্দ্র করে শত শত বছর ধরে চলে আসা অস্বচ্ছতা ও কায়েমী সুবিধাভোগীদের দখলদারিত্বে শক্ত আঘাত হানলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক জনাব সারওয়ার আলম।

১০ জুন সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় তিনি উভয় দরগাহের মসজিদ-মাদরাসা কমিটি, মোতাওয়াল্লী ও সংশ্লিষ্টদের ডেকে আয়-ব্যয়ের স্পষ্ট হিসাব চান। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আবেদন এবং পরিকল্পনা কমিশনের নির্দেশনা অনুসারে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

সভায় দরগাহ মাদরাসার মুহতামিম, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির সিলেট জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দ, ওয়াকফ কর্মকর্তা, সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এডিসি মাসুদ রানার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় মাজার কমিটির নেতারা দৈনিক, মাসিক ও বার্ষিক আয়-ব্যয়ের কোনো সুস্পষ্ট রেকর্ড দেখাতে পারেননি।

জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বলেন, হযরত শাহজালাল (রহ.) ও তাঁর ভাগ্নে হযরত শাহপরান (রহ.) কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা ব্যক্তির সম্পদ নন। তাঁরা সিলেটবাসীর গর্ব এবং সম্পদ। তাওহীদের আলো নিয়ে আসা এই মহান সন্তানদের দরগাহকে সকলের জন্য উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ রাখতে হবে।

তিনি নির্দেশ দেন, এখন থেকে মাজারের সকল আয়-ব্যয়ের হিসাব স্বচ্ছভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং নিয়মিত প্রশাসনের কাছে জমা দিতে হবে।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, প্রতি সপ্তাহে অর্ধ লক্ষাধিক দর্শনার্থী ও পর্যটক এ দুই মাজারে আসেন। এতে সিলেটের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও নিরাপত্তা, পার্কিং, পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য সুবিধা তৈরি হয়নি। তিনি মাজার এলাকায় আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন মাল্টি-স্টোরিড মসজিদ (নারীদের জন্য আলাদা ফ্লোরসহ), দেওবন্দের মতো উন্নত মাদরাসা এবং দরগাহ মাদরাসার লাইব্রেরিকে বিশ্বের দুর্লভ কিতাবের কেন্দ্রে পরিণত করার মেগা পরিকল্পনার কথা জানান।

এ পদক্ষেপকে সিলেটের অনেকেই স্বাগত জানিয়েছেন। দীর্ঘদিনের অভিযোগের পর প্রশাসনের এই সাহসী উদ্যোগ মাজার ব্যবস্থাপনায় নতুন যুগের সূচনা করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

জকিগঞ্জ ক্রিকেট প্রিমিয়ার লীগের প্লেয়ার ড্রাফট ১২ সেপ্টেম্বর

সিলেট হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারে দখলদারিত্বে , সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের বড় পদক্ষেপ

আপডেটের সময়: ১২:৩৩:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
20

সুলতানে সিলেট হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) এর দরগাহকে কেন্দ্র করে শত শত বছর ধরে চলে আসা অস্বচ্ছতা ও কায়েমী সুবিধাভোগীদের দখলদারিত্বে শক্ত আঘাত হানলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক জনাব সারওয়ার আলম।

১০ জুন সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় তিনি উভয় দরগাহের মসজিদ-মাদরাসা কমিটি, মোতাওয়াল্লী ও সংশ্লিষ্টদের ডেকে আয়-ব্যয়ের স্পষ্ট হিসাব চান। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আবেদন এবং পরিকল্পনা কমিশনের নির্দেশনা অনুসারে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

সভায় দরগাহ মাদরাসার মুহতামিম, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির সিলেট জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দ, ওয়াকফ কর্মকর্তা, সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এডিসি মাসুদ রানার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় মাজার কমিটির নেতারা দৈনিক, মাসিক ও বার্ষিক আয়-ব্যয়ের কোনো সুস্পষ্ট রেকর্ড দেখাতে পারেননি।

জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বলেন, হযরত শাহজালাল (রহ.) ও তাঁর ভাগ্নে হযরত শাহপরান (রহ.) কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা ব্যক্তির সম্পদ নন। তাঁরা সিলেটবাসীর গর্ব এবং সম্পদ। তাওহীদের আলো নিয়ে আসা এই মহান সন্তানদের দরগাহকে সকলের জন্য উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ রাখতে হবে।

তিনি নির্দেশ দেন, এখন থেকে মাজারের সকল আয়-ব্যয়ের হিসাব স্বচ্ছভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং নিয়মিত প্রশাসনের কাছে জমা দিতে হবে।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, প্রতি সপ্তাহে অর্ধ লক্ষাধিক দর্শনার্থী ও পর্যটক এ দুই মাজারে আসেন। এতে সিলেটের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও নিরাপত্তা, পার্কিং, পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য সুবিধা তৈরি হয়নি। তিনি মাজার এলাকায় আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন মাল্টি-স্টোরিড মসজিদ (নারীদের জন্য আলাদা ফ্লোরসহ), দেওবন্দের মতো উন্নত মাদরাসা এবং দরগাহ মাদরাসার লাইব্রেরিকে বিশ্বের দুর্লভ কিতাবের কেন্দ্রে পরিণত করার মেগা পরিকল্পনার কথা জানান।

এ পদক্ষেপকে সিলেটের অনেকেই স্বাগত জানিয়েছেন। দীর্ঘদিনের অভিযোগের পর প্রশাসনের এই সাহসী উদ্যোগ মাজার ব্যবস্থাপনায় নতুন যুগের সূচনা করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।