
সুলতানে সিলেট হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) এর দরগাহকে কেন্দ্র করে শত শত বছর ধরে চলে আসা অস্বচ্ছতা ও কায়েমী সুবিধাভোগীদের দখলদারিত্বে শক্ত আঘাত হানলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক জনাব সারওয়ার আলম।
১০ জুন সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় তিনি উভয় দরগাহের মসজিদ-মাদরাসা কমিটি, মোতাওয়াল্লী ও সংশ্লিষ্টদের ডেকে আয়-ব্যয়ের স্পষ্ট হিসাব চান। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আবেদন এবং পরিকল্পনা কমিশনের নির্দেশনা অনুসারে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
সভায় দরগাহ মাদরাসার মুহতামিম, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির সিলেট জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দ, ওয়াকফ কর্মকর্তা, সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এডিসি মাসুদ রানার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় মাজার কমিটির নেতারা দৈনিক, মাসিক ও বার্ষিক আয়-ব্যয়ের কোনো সুস্পষ্ট রেকর্ড দেখাতে পারেননি।
জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বলেন, হযরত শাহজালাল (রহ.) ও তাঁর ভাগ্নে হযরত শাহপরান (রহ.) কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা ব্যক্তির সম্পদ নন। তাঁরা সিলেটবাসীর গর্ব এবং সম্পদ। তাওহীদের আলো নিয়ে আসা এই মহান সন্তানদের দরগাহকে সকলের জন্য উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ রাখতে হবে।
তিনি নির্দেশ দেন, এখন থেকে মাজারের সকল আয়-ব্যয়ের হিসাব স্বচ্ছভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং নিয়মিত প্রশাসনের কাছে জমা দিতে হবে।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, প্রতি সপ্তাহে অর্ধ লক্ষাধিক দর্শনার্থী ও পর্যটক এ দুই মাজারে আসেন। এতে সিলেটের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও নিরাপত্তা, পার্কিং, পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য সুবিধা তৈরি হয়নি। তিনি মাজার এলাকায় আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন মাল্টি-স্টোরিড মসজিদ (নারীদের জন্য আলাদা ফ্লোরসহ), দেওবন্দের মতো উন্নত মাদরাসা এবং দরগাহ মাদরাসার লাইব্রেরিকে বিশ্বের দুর্লভ কিতাবের কেন্দ্রে পরিণত করার মেগা পরিকল্পনার কথা জানান।
এ পদক্ষেপকে সিলেটের অনেকেই স্বাগত জানিয়েছেন। দীর্ঘদিনের অভিযোগের পর প্রশাসনের এই সাহসী উদ্যোগ মাজার ব্যবস্থাপনায় নতুন যুগের সূচনা করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিবেদকের নাম 











